দারিদ্র্য থামাতে পারেনি প্রান্তকে, এসএসসিতে জিপিএ-৫
মো. শামীম শিবলী, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংসারের অভাব দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রান্তকে। হৃদরোগে আক্রান্ত অসুস্থ বাবার সেলাই মেশিনের সামান্য আয় দিয়ে সংসার ও প্রান্তের পড়াশোনার খরচ চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। তাই নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ফার্মেসিতে কাজ নেন প্রান্ত দেবনাথ। পাশাপাশি চলছিল পড়াশোনা। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি।
প্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পঙ্কজ দেবনাথ পেশায় একজন দর্জি। সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তান প্রান্ত পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওষুধের ফার্মেসিতে কাজ করেন। দিনের একটি বড় সময় কাজের পেছনে ব্যয় হলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহে ভাটা পড়েনি।
ফার্মেসির কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই নিয়ে বসতেন প্রান্ত। কখনো কাজের ফাঁকে, আবার কখনো গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার সেই পরিশ্রমের ফল এসেছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। সবচেয়ে বেশি খুশি প্রান্তের বাবা পঙ্কজ দেবনাথ। ছেলের সাফল্যে তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে গর্ব ও আনন্দের ছাপ।
প্রান্তের এই সাফল্য শুধু একটি ভালো ফল নয়, এটি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণে লড়াই করে যাওয়ার গল্প। অর্থের অভাব কিংবা কাজের ব্যস্ততা যে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পথ থামিয়ে দিতে পারে না, প্রান্ত দেবনাথ তারই উদাহরণ।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান প্রান্ত। তার এই সাফল্য বাঞ্ছারামপুরের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠতে পারে।
