জশনে জুলুসে চট্টগ্রামে মানুষের ঢল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, শান্তি, মানবতা ও অহিংসার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ জুলুসে অংশ নিতে বুধবার ভোর থেকেই নগরে আসতে শুরু করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা জুলুসে যোগ দিতে নগরে প্রবেশ করছেন। কেউ বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে, আবার কেউ হেঁটে মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকার দিকে আসছেন। সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
আয়োজক আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এবারের জুলুসে ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় সাজানো হয়েছে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।
জুলুসটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ ও দেশ-জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
জুলুসকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাজসজ্জার কাজ চলছে। ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির তোরণ। সড়কের দুই পাশে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় টানানো হয়েছে পতাকা ও ব্যানার।
জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগারও স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুসের মতো বড় ও সংবেদনশীল সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
