যে কারণে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করল সিপিডি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৯৫টি কারখানা বন্ধ এবং ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছিল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), তাতে বিভ্রান্তি ছিল বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রকাশের ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেছে তারা।
সোমবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। সেখানে শিল্প ও বাণিজ্যসংক্রান্ত আলোচনায় কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ওই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।
পরদিন মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিপিডি জানায়, তথ্যটি ২২ আগস্ট প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিবেদন সংশোধন করা হয়।
সিপিডি জানায়, প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি। পরে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া তথ্যের সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছিল। এ থেকেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, অসাবধানতাবশত এমন বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তারা দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত ভুল এড়াতে গবেষণা দল আরও সতর্ক থাকবে।
সোমবারের সংলাপে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেলেন আশিক চৌধুরী
প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী—এই তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে সিপিডি ওই তথ্যের উৎস নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি স্বীকার করে।
সিপিডি জানিয়েছে, তাদের গবেষণায় সংসদ ও মন্ত্রী পর্যায়ের বক্তব্য, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎস ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণা সংস্থাটি বলছে, তথ্যটিতে বিভ্রান্তি থাকলেও দেশের শিল্প খাত নিয়ে তাদের উদ্বেগ পুরোপুরি অমূলক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
এ কারণে শিল্প খাতের পরিস্থিতি সরকারের বিশেষ নজরে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে সিপিডি।
