ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করা হয়: পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে করে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় হোটেল নূরজাহানের সামনে নামেন তাজমিন। সেখান থেকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। অটোরিকশাচালক সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে অন্য পথে চালাতে থাকেন। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডে একাই জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি নির্ধারিত পথে না যাওয়ায় বিষয়টি বুঝতে পারেন তাজমিন। এ সময় তিনি অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় নিজের লাইভ লোকেশন পাঠান এবং হোয়াটসঅ্যাপে বাবাকে বার্তা দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।
পুলিশ জানায়, অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় যায়। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।
পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
