×

সারাদেশ

পরিবেশমন্ত্রীর আদেশ অমান্য

কাপ্তাইয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাঁশ কোড়ল বিক্রির হিড়িক

Icon

মাহফুজ আলম, কাপ্তাই (রাঙামাটি) থেকে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম

কাপ্তাইয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাঁশ কোড়ল বিক্রির হিড়িক

বন থেকে কেটে আনা এসব বাঁশ কোড়ল বিক্রির অনুমতি না থাকলেও তা বাধাহীনভাবেই বিক্রি হচ্ছে। ছবি : ভোরের কাগজ

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জুন, জুলাই ও আগস্ট এ তিন মাস বাঁশের বংশ বিস্তারের উপর্যুক্ত সময়। এসময় কোনো কোনো প্রজাতির বাঁশ রাইজোমের এর মাধ্যমে আবার কোনো কোনো বাঁশ বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে থাকে। সংরক্ষিত বনে জন্মানো এসব বাঁশ তিন বছর পর পরিপূর্ণ বাঁশে পরিণত হলে কর্তন ও ব্যবহার উপযোগী হয়।

বাঁশ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য প্রণীত কার্যকরী পরিকল্পনার ২২৩ নং অনুচ্ছেদের ১১ উপ-অনুচ্ছেদ এর ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রতি বছর জুন হতে সেপ্টেম্বর এই তিন মাস বাঁশ আহরণ নিষিদ্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে স্বার্থান্বেষী একটি মহল বন এলাকায় দাদন খাটিয়ে বাঁশ কোড়ল কাটার হিড়িক চালাচ্ছে রিজার্ভ ফরেস্ট। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কচি বাঁশের ডিগ-কোড়ল মানুষের খাবার উপযোগী হওয়ায় এটি বিভিন্ন এলাকার বাজারজাতকরণের ব্যবসা শুরু হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কাপ্তাই উপজেলা সদর বড়ইছড়ি, মিশন ঘাট  এলাকায় প্রকাশ্যে এটি বেচাকেনা চলছে। ফলে কাপ্তাই রেঞ্জের আওতাধীন ব্যাঙছড়ি ও রাম পাহাড় বিটের পাহাড়ে বাঁশঝাড় বিলুপ্ত হতে বসেছে। এর কারণে বন্যহাতির খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ এই মৌসুমে বাঁশ কোড়ল এর বেচাকেনার হীরক চলতে থাকায় কোটি টাকার বাস সম্পদ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

আরো পড়ুন : বিস্ফোরণের শব্দে আবারো কাঁপল টেকনাফ

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট, এই তিন মাস বাঁশ প্রজননের প্রধান সময়। এই মৌসুমে এক একটি বাঁশগুচ্ছে ১০-৮০টি গাছ একত্রে দেখা যায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশঝাড় বলা হয়। ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও কাগজ উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাবপত্র, কুটির শিল্প তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঁশের অবদান অনস্বীকার্য। এক কথায় মানুষের জীবনে এর প্রয়োজন দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। এ বাঁশকে গরিবের গজারি বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

কিন্তু স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলছে কোড়ল কেটে বাঁশ নিধন তৎপরতা। এর ফলে বাঁশঝাড় উজাড়, বাঁশের বংশ ধ্বংস ও বন্যহাতির খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, বাঁশ কোড়ল বিক্রি করে জনপতি প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ শত টাকা আয় হচ্ছে। পাহাড় থেকে কোড়ল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা অর্থে তাদের সংসারের খরচ চলে। 

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বিভিন্ন সভা সেমিনারে বলেছেন, সবুজ পরিবেশ হারানো যাবে না, অবিলম্বে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, মানুষ প্রকৃতির অংশ, তাই নিজেদের প্রয়োজনে অস্তিত্বের জন্য নির্বিচারে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র ধ্বংস করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অথচ মন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও উপদেশ কাপ্তাইয়ে উপেক্ষিত। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ রাঙ্গামাটি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া বলেন, বাঁশ সম্পদের সুষ্ঠু বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য বছরের ন্যায় চলতি বছরেও জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাঁশ কাটা বন্ধ রাখতে হবে। বাঁশ কাটা নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে যাতে বনাঞ্চলে কোনো প্রকার বাঁশ কাটা না হয় সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। 

নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কাউকে বনাঞ্চলে কোনো প্রকার বাঁশ কাটতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নিকটস্থ বন বিভাগীয় অফিসে অথবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জুন-আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাস বাঁশের প্রজনন মৌসুম। এ সময় বাঁশ কাটা বন্ধ ও সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। বন বিভাগ এ সময় কাউকে বাঁশ কোড়ল সংগ্রহ করতে দেয় না। অবৈধভাবে যদি কেউ বিক্রি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল হালান্ডের নরওয়ে

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল হালান্ডের নরওয়ে

হবিগঞ্জের বিচারককে হাইকোর্টের তলব

মামলা ঝুলছে পাঁচ বছর হবিগঞ্জের বিচারককে হাইকোর্টের তলব

বাতিল হয়ে গেল ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা টিকিটও

বাতিল হয়ে গেল ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা টিকিটও

‘জনগণের শক্তি নিয়েই আমি ফিরব’

ভারতের পত্রিকায় সিরিজ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ‘জনগণের শক্তি নিয়েই আমি ফিরব’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App