সড়কের অবস্থা দেখে পিডি-ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করলেন প্রতিমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ঘেঁষা একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার বিষয়টি দেখতে এসেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সড়কটি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের পরিচালক এবং প্রকৌশলীকে বরখাস্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে ওই সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তার একটি অংশ ভেঙে কয়েক ফুট নিচে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
আজ সরেজমিনে দেখতে এসে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগও সড়ক ধসে পড়ার একটি কারণ। তবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা এবং কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের টাকায় উন্নয়নকাজ হবে, কিন্তু সেই কাজ যদি মানহীন হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’ পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে তাদের বরখাস্তের চিঠি হস্তান্তর করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ ছাড়া পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অতীতে তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখলেও এবার এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে। জনগণের অর্থে নির্মিত কোনও প্রকল্পে নিম্নমান বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।’
তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণ ও স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির প্রভাবও এ ধরনের ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন। আশা করছি তদন্তে প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি নির্মাণের সময়ই কাজের মান নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি পুননির্মাণসহ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল)। একটি প্যাকেজের অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায়, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে আরেকটি প্যাকেজের আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়। দুটি প্যাকেজের আওতায় মোট ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং, গার্ডওয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল।
