‘মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশির ভিসা নিয়ে জটিলতা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে তিন জনের মরদেহ দেশে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যাতে প্রবাসে নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজ করতে পারেন, সেজন্য সরকার সব সময় সতর্ক ও সক্রিয় আছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে প্রভাবিত হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের দেশের প্রবাসীরা। যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে যাতে থাকে, সেজন্য বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ সব জায়গায় জ্বালানি তেলের দাম প্রচুর বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে জ্বালানির দাম এখনও বাড়েনি। এটা বর্তমান সরকারের সফলতা। আমরা চেষ্টা করছি, সব পর্যায়ের জনগণ যাতে ভালো থাকতে পারে। জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। যদি আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হয়, তাহলে আমাদের জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে পারে। সেটাও জনগণকে নিরাপদ জায়গায় রেখে হতে হবে।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে প্রথম লোক পাঠিয়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার যখনই দায়িত্বে এসেছে, তখনই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক ছিল। এ কারণে যুদ্ধের সময়ও ইরানসহ সব দেশ বাংলাদেশকে একটি বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে। আমার প্রবাসী ভাইয়রা ওই সব দেশে সুরক্ষিত আছেন। বিভিন্ন পথে তেল ও গ্যাস যেগুলো আমাদের আসার দরকার, সেগুলো আমরা পাচ্ছি। সেগুলোয় আমাদের কোনও ক্রাইসিস হচ্ছে না।’
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগেও আমি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছি। তখনও দেখেছি এর অবস্থা করুণ। আজ দেখে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। মানদণ্ডের দিক দিয়ে এটি কোনও পর্যায়ে পড়ে না। এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান প্রমুখ।
