বাঞ্ছারামপুরে গণপাঠাগারের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাত্র-জনতা, কবি-সাহিত্যিক, পাঠক এবং সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, পাঠাগারটি উপজেলা প্রশাসনের অধীনেই পরিচালিত হোক, তবে এর নাম এমন হওয়া উচিত, যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনসম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটায়।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘ছাত্র-জনতা, কবি-সাহিত্যিক, পাঠক ও সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘নাম নয়, চাই ঐতিহ্যের সম্মান’, ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের মুক্তি চাই’সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার উপজেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এটি পুনরায় চালু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও, স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এর নাম ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মোনাইম হক মিশুকের ভাষ্য, পাঠাগারটি উপজেলা প্রশাসনের অধীনেই পরিচালিত হোক—এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।উপজেলা প্রশাসন গ্রন্তাগার নামে তাদের আপত্তি, কারন প্রশাসনিক পরিচয় আর একটি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী পরিচয় এক বিষয় নয়। তারা ৩৭ বছরের ইতিহাস ও স্থানীয় মানুষের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে পাঠাগারের নাম ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার’, ‘বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি’, ‘ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি’ অথবা ‘উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি’ রাখার প্রস্তাব দেন।
ছাত্র প্রতিনিধি মোঃ সবুজ বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বন্ধ হয়ে থাকা গণপাঠাগারটি পুনরায় চালু করা, নাম পরিবর্তন করা নয়। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি ২০১২ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকে। ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধারাবাহিকভাবে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা ছাত্রসমাজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি পাঠাগারটি চালু হলেও অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এর নাম ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বাঞ্ছারামপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নির্ধারণে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা পাঠাগারের নাম পুনর্বিবেচনার দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে পাঠাগারের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে ‘ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি’ অথবা ‘উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি’—এই দুটি নামের যেকোনো একটি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।মানববন্ধন শেষে সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ রবিউল হাসান ভূঁইয়ার কাছে তাদের স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এবিষয়ে জানতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলামকে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাইদ ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নাম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। উপজেলা ছাত্রসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, পাঠাগারটির নাম ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার’ বা ‘বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি’ হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, প্রয়াত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরা পাঠাগারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাই তার স্মরণে পাঠাগারটির নামকরণেরও দাবি উঠেছে।
