মিয়ানমার থেকে ২৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভুল করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের পর আরাকান আর্মির (এএ) হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফেরত আনা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ছয়জন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে জেলেদের গ্রহণ করে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন: কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হবে
তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকটি মাছ ধরার নৌকার জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করেন।
পরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকা বা কারাগারে এসব জেলেকে রাখা হয়।
মানবিক বিবেচনায় আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির উদ্যোগে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে জেলেদের হস্তান্তরের বিষয়ে অগ্রগতি হয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়: সিইসি
বুধবার নাফ নদীর শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ জেলেকে গ্রহণ করে বিজিবি। এরপর তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে আনা হয়। সেখানে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের পরিচয় যাচাই করছেন। যাচাই শেষে জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখনও আটক থাকা অন্য জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থা অটুট রেখে সংবিধান ও আইনের আলোকে বিজিবি তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে।
