তামিমের যেসব পরিকল্পনায় বদলে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে শুধু জাতীয় দলের জয়-পরাজয়কে গুরুত্ব না দিয়ে পুরো ক্রিকেট কাঠামোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার খুঁজে বের করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি। সেখানে তামিম জানিয়েছেন, জাতীয় দলের তাৎক্ষণিক ফলাফলের চেয়ে ক্রিকেটের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই কাঠামো গড়ে তোলাকে বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তামিম বলেন, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকবেই এ বিষয়টি মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। যে উদ্দেশ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সততার সঙ্গে সেই লক্ষ্য পূরণ করাই তাঁর প্রধান কর্তব্য বলেও জানান তামিম।
জাতীয় দলের ফলাফলের বাইরে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর মতে, বাংলাদেশে অনেক বছর ধরে ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তাই শুধু সিরিজ জয় বা পরাজয় নিয়ে চিন্তা না করে ক্রিকেটের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
আরও পড়ুন : মেসিকে গড়ে তোলার পেছনে বাবার যে অবদান
তামিম বলেন, বর্তমান বোর্ড জাতীয় দলের ফলাফলকেন্দ্রিক চিন্তা করছে না। বরং দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, দুই দশক আগে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা গেলে এখনকার পরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণ করাই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হবে ক্রিকেটার তৈরির কারখানা
তামিমের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেন্টার অব এক্সিলেন্স। এই প্রতিষ্ঠানকে তিনি ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির একটি ‘কারখানা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বিশ্বাস, পরিকল্পনাগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
আরও পড়ুন : জার্সি খুলে শোকার্ত মেসিকে গোল উৎসর্গ দে পলের
তামিমের ভাষায়, বর্তমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পাঁচ থেকে সাত বছর পর দেশে ৫০ থেকে ৬০ জন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি হতে পারেন। তাঁর মতে, ভালো ক্রিকেটার তৈরির জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ কাঠামো প্রয়োজন, আর সেন্টার অব এক্সিলেন্স সেই কাজের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
জাতীয় দলের পাশাপাশি নজর তরুণদের দিকে
বাংলাদেশের ক্রিকেটে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটার তৈরিতে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান তামিম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রত্যন্ত জায়গায় থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন : রিয়ালে গেলে ব্যালন ডি’অর জিততেন নেইমার
তামিমের মতে, জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। তবে দেশের কোনো একটি অঞ্চলে থাকা ১৬ বছর বয়সী একজন তরুণের সম্ভাবনা কতটা, সেটি আগে থেকে বলা কঠিন। সেই তরুণের মধ্যেই ভবিষ্যতের বিশ্বসেরা ব্যাটার কিংবা বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর মতো ক্রিকেটার লুকিয়ে থাকতে পারেন।
এ কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের জন্য শুধু বর্তমান খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হবে না; বরং তৈরি হবে বড় একটি প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের ভাণ্ডার।
সব মিলিয়ে, তামিম ইকবালের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য তাৎক্ষণিক সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ ভিত্তি তৈরি করা। অবকাঠামো উন্নয়ন, সেন্টার অব এক্সিলেন্স এবং তৃণমূল থেকে প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
