অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের যত পরিসংখ্যান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। রোববার ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে এই কীর্তি অর্জন করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সাড়ে তিন দিনের মধ্যেই শেষ হওয়া ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রাখে টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই সেই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।
ঐতিহাসিক এই জয়ে বেশ কিছু রেকর্ড ও পরিসংখ্যানও যোগ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয় টেস্টেই জয়
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র তৃতীয় টেস্টেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্রুততম টেস্ট জয়ের রেকর্ড এখন বাংলাদেশের। পাকিস্তানকে সেখানে প্রথম জয়ের জন্য খেলতে হয়েছিল সাতটি টেস্ট, ভারতকে ১২টি। শ্রীলঙ্কা ১৫টি টেস্ট খেলেও এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পায়নি।
অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত স্বাগতিকদের হারানোর রেকর্ড অবশ্য ইংল্যান্ডের। নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল তারা। দক্ষিণ আফ্রিকাও তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয় পেয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বের কাছে বার্তা’
উইকেটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়
৯ উইকেটের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে উইকেটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। আগের জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে।
৩১ বছর পর এশিয়ার দলের কাছে হার
ভারতকে বাদ দিলে ৩১ বছর পর নিজেদের মাটিতে কোনো এশীয় দলের কাছে টেস্টে হারল অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে কোনো এশীয় দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্টে হেরেছিল তারা।
সেনা দেশগুলোতে দ্বিতীয় জয়
দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—এই চার সেনা (SENA) দেশের মাটিতে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।
তানজিদের অনন্য কীর্তি
একই টেস্টের এক ইনিংসে সেঞ্চুরি এবং অন্য ইনিংসে শূন্য রানের নজির গড়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বাংলাদেশের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং
ম্যাচে ১১১ রান খরচায় ৯ উইকেট নিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের এটি দ্বিতীয় সেরা ম্যাচ ফিগার। ২০০৮ সালে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯৭ রানে ৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন শাহাদাত হোসেন।
আরও পড়ুন: আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখিয়েছি: মিরাজ
বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই সেরা ৯ উইকেটের পারফরম্যান্স। এর আগে ২০২১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রান দিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক টেস্টে কোনো সফরকারী বোলারের তৃতীয় সেরা পারফরম্যান্সও এটি। যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের মরিস টেট ও পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। নিজেদের প্রথম টেস্টে দুজনই ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন—টেট ১৯২৪ সালে এবং আকরাম ১৯৯০ সালে।
পেসারদের রেকর্ডে ভাগ বসাল বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছেন মোট ১৪টি উইকেট। বাংলাদেশের দলগত পেস বোলিংয়ের রেকর্ডে এটিও যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তান এবং ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেও বাংলাদেশের পেসাররা ১৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।
বিদেশের মাটিতে শান্তর সর্বোচ্চ জয়
অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে নাজমুল হোসেন শান্তর এটি তৃতীয় টেস্ট জয়। বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়ের রেকর্ড এখন তার। মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের দুটি করে জয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে শান্তর অধিনায়কত্বে এটি বাংলাদেশের নবম টেস্ট জয়, যা তাকে দেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দর্শক উপস্থিতিতেও নতুন রেকর্ড
ডারউইন টেস্টে মোট ১৮ হাজার ৩৫২ জন দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ডারউইনের এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচগুলোর ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
