আসিফ নজরুল
‘বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত আমারই ছিল’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ফাইল ছবি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার ঘটনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে দায়ী করে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ নজরুল বলেন, দেশের মর্যাদা ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি তিনি আগেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে এত দিন পর এ নিয়ে তদন্ত করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: ‘আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ’
বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশে গঠিত এ কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
তদন্ত প্রতিবেদনের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসর বর্জনের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নেওয়া সমীচীন নয়। প্রতিবেদনে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর স্পষ্ট করেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ‘একজন ব্যক্তি’ বলতে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে বোঝানো হয়েছে।
মূল দায় কার—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এর বাইরে আর কী বলব!’
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এত দিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’
ভারতে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অসম্মানজনকভাবে বাদ দেওয়ার পর থেকেই সংকটের সূত্রপাত। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং দেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে দল না পাঠানোর অবস্থান নেওয়া হয়।
নিজের আশঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। তার দাবি, আইসিসির প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে তিনটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল দলে মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতি, বাংলাদেশি সমর্থকদের অবাধ চলাচলের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। এসব তথ্য বিবিসি বাংলাতেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, টুর্নামেন্টটি অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজনের জন্য শেষ পর্যন্ত জোর কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে আইসিসিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এ ছাড়া বিষয়টি সমাধানে ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছিল দাবি করে সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেওয়াতে নয়।’
