হামলার আশঙ্কায় মক্কায় সতর্কতা জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র নগরী মক্কাসহ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার আশঙ্কায় স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফসহ কয়েকটি অঞ্চলে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, মক্কা শহরে আপাতত বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হায়োমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
এর একদিন আগে, সোমবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর পরদিনই নতুন করে এসব সতর্কতা জারি করা হলো।
এদিকে মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগা এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও জানা গেছে।
হুথিদের দাবি, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে।
হুথি নেতা হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখলে তাদের প্রতিক্রিয়াও চলবে এবং তা আরও জোরালো হতে পারে।
এদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে হুথিদের তৎপরতা এবং সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
