খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
মেয়েকে ট্যাটু দেখে শনাক্ত করেন মা-বাবা, রিমান্ডে ৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার সবুজবাগে খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধারের ঘটনায় নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মোমিন হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যেভাবে মিলল নিহতের পরিচয়
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সবুজবাগ থানার বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচে অজ্ঞাত এক নারীর খণ্ডিত মাথা পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। একই স্থানে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় তার দুই হাত।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পরে জানা যায়, নিহত তরুণীর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী। ১৯ বছর বয়সী ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।
আরও পড়ুন: দেশে পৌঁছেছে দেবাশীষসহ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ
পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে খণ্ডিত মাথার ছবি এবং দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে মা-বাবা ফালানীকে শনাক্ত করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে একসঙ্গে
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফালানী, গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসেছিলেন।
পরে আসামিদের কয়েকজন ফালানীকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, ৪ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফারুক ও ফালানী ছাড়া অন্য কয়েকজনকে আবার কালভার্টের ওপর অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর একে একে চলে যান।
আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের পূর্ববর্তী আচরণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ওই পাঁচজনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান ও ঠিকানা নিশ্চিত করা এবং গ্রেপ্তারের জন্য পাঁচ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিন হোসেন জানান, আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ফালানীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গত ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন এসআই রাশেদুল হাসান। মামলাটির তদন্ত করছে সবুজবাগ থানা পুলিশ।
