‘আমার স্বপ্ন শেষ, কলিজাটা আর নেই’
আহমেদ সাজু (সখীপুর) টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘আমার স্বপ্ন শেষ, কলিজাটা আর নেই।’ ঠিক এভাবেই বিলাপ করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সেঁজুতির বাবা ফালু চন্দ্র মালু। টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর সেঁজুতি (৮) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সেঁজুতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজনরা জানায়, গত শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলা মাঠে খেলতে গিয়ে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। ঘটনার পর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরে রাতেই শিশুটির বাবা ফালু চন্দ্র সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের একাধিক সদস্যের দাবি, রোববার রাতে তাদের কাছে একটি ফোনকল আসে, যেখানে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই কলের প্রায় আধা ঘণ্টা পর সোমবার সকালে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
নিহত সেঁজুতির বাবা ফালু চন্দ্র মালু দাবি করে বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” তিনি হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ফোনকলে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে আইনি সহায়তাসহ পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার পর থেকে সখীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এএসপি (সার্কেল) একেএম মামুনুর রশীদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরে ডুবে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
