ইয়াসিনের জানাজা শেষে আবারও মহাসড়কে ববি শিক্ষার্থীরা
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা শেষে আবারও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে আবারও মহাসড়কে অবস্থান নেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবোঝাই একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর আরাফাতকে উদ্ধার করে বরিশালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আরাফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক মেরামত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে ফুটপাত চালু করা।
পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও কয়েকটি দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করা এবং ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, “আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান রাখব। প্রশাসনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ওই পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি না।”
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সন্ধ্যায় মহাসড়কে অবরোধ চলায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
