বাইডেনের ক্যানসার নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন ছেলে হান্টার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার আরও অগ্রসর হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রচারিত ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
হান্টারের ভাষ্য, ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আরও অগ্রসর হয়েছে এবং এর কারণে বাইডেনকে প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
হান্টার বলেন, ‘তার বাবার অসুস্থতা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও দুর্বল করে দেওয়ার মতো হলেও বাইডেন এখনো নিজেকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশাবাদী বলে জানান হান্টার।’
আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে: ইরান
বাবার অসুস্থতার প্রসঙ্গ উঠলে সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হান্টার। তিনি জানান, ‘পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ মানুষকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বাইডেন সাধারণত নিজের শারীরিক কষ্ট নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ করেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
জো বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের মে মাসে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় চার মাস পর। তখন জানানো হয়েছিল, তার প্রোস্টেট ক্যানসার বেশ আগ্রাসী ধরনের এবং ইতোমধ্যে হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মেটাস্ট্যাটিক বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়।
রোগ শনাক্ত হওয়ার পর বাইডেনের চিকিৎসা শুরু হয়। তার চিকিৎসার মধ্যে রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপি রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সময় ৮৩ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, তার ক্যানসারের চিকিৎসা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রভাব জনজীবনেও স্পষ্ট হয়েছে। জুলাইয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যানসারের চিকিৎসা ও অসুস্থতার কারণে বাইডেনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। একই প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বরাত দিয়ে বলা হয়, চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া মিললেও রোগ এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে অবশ্য তার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় থেকেই নানা আলোচনা ছিল। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৮১ বছর। ওই বছরের জুনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বয়স ও সক্ষমতা নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও চাপ বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বাইডেন। পরে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।
প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পরও বাইডেন পুরোপুরি জনজীবন থেকে সরে যাননি। চিকিৎসা চলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সীমিত পরিসরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনে শিকাগোতে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়।
আরো পড়ুন: মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও প্রকাশ, দেখা গেল যা
এদিকে নিজের প্রেসিডেন্ট জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাইডেনের একটি স্মৃতিকথা প্রকাশের কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি জানান, ‘বইটি প্রকাশের প্রস্তুতির পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চালিয়ে যাচ্ছেন। অসুস্থতার মধ্যেও পরিবার, জনজীবন ও নিজের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।’
বাইডেনের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য মূলত তার ছেলে হান্টারের সাক্ষাৎকার থেকেই এসেছে। ফলে চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা রোগটি শরীরের কোন কোন অংশে ছড়িয়েছে—এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নতুন বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হান্টারের বক্তব্যকেই সর্বশেষ পারিবারিক আপডেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
