টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার অন্তত ১০টি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকার হাসামদিয়া এবং কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এরই জেরে রাতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়। রাত নেমে আসায় একপর্যায়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সুমন নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। সাময়িকভাবে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।’
ওসি আরো বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
