হলি আর্টিজান হামলা: রক্তাক্ত সেই রাতের এক দশক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে পরিচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ট্র্যাজেডির এক দশক পূর্ণ হলো আজ (১ জুলাই)। ২০১৬ সালের এই দিনে সংঘটিত ওই হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি মোট ২৯ জন নিহত হন।
দীর্ঘ তদন্ত, বিচার ও দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগোলেও ভয়াবহ এই হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।
হামলার সময় জঙ্গিরা বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের মাধ্যমে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ পরিচালনা করে। ওই অভিযানে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামীহ মোবাশ্বীর, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল এবং খায়রুল ইসলাম পায়েল নামে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।
হামলার পর গুলশান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে। প্রায় চার বছর তদন্ত শেষে আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আরো পড়ুন : টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১৫
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা ছিলেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের মধ্যে খালেদ ও রিপন তখন পলাতক ছিলেন।
পরে বড় মিজানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি সাত আসামির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় দেন। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ রিপন এবং শরিফুল ইসলাম খালেদ।
হামলার দুই বছর পর হলি আর্টিজানের ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে সরকারিভাবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। ইতালি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়া হামলায় নিহত ডিবির তৎকালীন সহকারী কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার তৎকালীন ওসি মো. সালাহউদ্দিন আহম্মেদের স্মরণে পুলিশ কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা জানান।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই জঙ্গি হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ এখনো অজানাই রয়ে গেছে।
