ছাগল চুরির ঘটনায় দুজন আটক, ‘লাখ টাকায় পাল্টে গেল হিসাব’
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
ছবি: এআই নির্মিত
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একটি ছাগল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক দুই সন্দেহভাজনকে ছাগল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সিএনজিসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পরে একজনকে আদালতে পাঠানো এবং অপরজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সিএনজির অবস্থান এবং থানার আইনগত প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের কিটিংচর এলাকা থেকে জয়মন্টপ বেপারীপাড়া গ্রামের বুদাই ব্যাপারীর ছেলে অনিক (২৫), পার্শ্ববর্তী নীলটেক গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে মোন্নাফ (২৮) এবং তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত আরও একজন একটি ছাগল চুরি করে সিএনজিযোগে সিরাজপুর পশুর হাটে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় কমে মাত্র সাত হাজার টাকায় ছাগলটি বিক্রির চেষ্টা করলে হাটের ব্যবসায়ী ও উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে একজন পালিয়ে গেলেও অনিক ও মোন্নাফকে আটক করে উদ্ধার হওয়া ছাগল ও ব্যবহৃত সিএনজিসহ শান্তিপুর (বাঘুলি) পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শান্তিপুর (বাঘুলি) পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এএসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, “আটক দুই ব্যক্তিকে ছাগল ও সিএনজিসহ থানায় পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী বিষয়ে ওসি স্যার বলতে পারবেন।”
এরপর থেকেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, থানায় নেওয়ার পর আটক মোন্নাফকে চান্দহর এলাকার একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলেও অপর আটক অনিককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সিংগাইর থানার এএসআই মো. আব্দুল জলিলের মধ্যস্থতায় প্রায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে অনিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ বা নথি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই মো. আব্দুল জলিল বলেন, “আমি থানায় ছিলাম, কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ছাগলটি থানায় রয়েছে। সিএনজিচালক চুরির সঙ্গে জড়িত কি না, তা আমার জানা নেই। ছাগল চুরির ঘটনায় কোনো বাদী না থাকায় একজনকে অন্য একটি চুরির মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে।”
তবে ওসির এই বক্তব্যের পরও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলছেন, আটক দুই ব্যক্তিকে ছাগল ও সিএনজিসহ থানায় পাঠানো হয়েছে। অথচ থানার বক্তব্যে সিএনজির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এছাড়া একজনকে আদালতে পাঠানো হলেও অপরজন কী প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেলেন, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে অভিযোগটি নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক দুই ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া ছাগল, চুরির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি এবং থানার পরবর্তী কার্যক্রম, সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তারও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত। এতে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার অবসান ঘটবে।
