গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী ও ভাগনির পর এবার মারা গেলেন ফাহিমাও
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ভাটারায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী ও ভাগনির পর এবার মারা গেছেন ফাহিমা আক্তারও। এর আগে এ ঘটনায় তার স্বামী শাহীন (২৪) ও ভাগনি হাফছা (৪) মারা যান। এ নিয়ে দগ্ধ তিনজন ব্যক্তি মারা গেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফাহিমা। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ ফাহিমা শনিবার রাত ১১টার দিকে আইসিইউতে মারা গেছেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এর আগে ফাহিমার স্বামী শাহীন ও ভাগনি হাফছাও আইসিইউতে মারা যান। শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফছার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ২ জনের মৃত্যু
শাহীনের প্রতিবেশী মো. জসিম বলেন, শাহীন একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। পরিবার নিয়ে ভাটারা থানার নতুনবাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাসার নিচতলায় থাকতেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে বিকট শব্দে গ্যাসের লাইন লিকেজ থেকে তাদের বাসায় বিস্ফোরণ হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নতুন বাজার ১০০ ফিট সড়কের এক ভবনের নিচতলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ হন শাহিন, তার স্ত্রী ফাহিমা এবং ভাগ্নি হাফসা।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শাহিন একটি কাপড়ের শোরুমে কাজ করতেন। তারা ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন ভোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসার ভেতরে থাকা তিনজনই দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাসাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, রাতে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে গ্যাস জমে ছিল। পরে ভোরে রান্নার সময় বা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
দগ্ধ ফাহিমার চাচি শামীমা সুলতানা বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে তারা নতুন বাজারের ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। বাসায় ওঠার সময়ই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি পাইপ মেরামত করেন। পরে আরও কয়েকবার পাইপে লিকেজ হলেও সেটি আর ঠিক করা হয়নি। বাড়িওয়ালার গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
