মানিকগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া মহল্লার বেপারীপাড়ায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে সেলিনা আক্তার (৪২) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সেলিনা আক্তার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সিংগাইর গ্রিন স্ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সিংগাইরের আঙ্গারিয়া মহল্লার বেপারীপাড়ায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের বড় বোন রামেসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মোবাইল ফোনে বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখেন, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সেলিনার মরদেহ একটি ভ্যানগাড়িতে তোলার চেষ্টা করছেন। এ সময় বোনের স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। রামেসার ধারণা, পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের আরেক বোন আনিসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সেলিনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
তবে নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির সঙ্গে সেলিনার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে টেলিফোনে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে অভিমান করে সেলিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে, রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জাহাঙ্গীর আলমের মা রাশেদা বেগম বলেন, সেলিনা বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেলিনা নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন বলে দাবি করেন তিনি। পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদা বেগম বলেন, তার ছেলের এমন সম্পর্কের কথা আগে শুনেছিলেন, তবে বর্তমানে নেই।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সেলিনা আক্তারের মৃত্যু নিয়ে একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে স্বামীর পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
