ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের কারাদণ্ড
কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হানিফ শেখ (৫১) রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামে। এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত তিনি নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁক ও কথিত কবিরাজি চিকিৎসা দিতেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ চিকিৎসার জন্য স্বজনেরা ওই কিশোরীকে হানিফ শেখের কাছে নিয়ে যান। পরদিন আবার চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এরপর তার পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করা হয়।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, চিকিৎসার নামে একজন কিশোরীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আদালতের দেওয়া এ সাজা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও জানান, আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় রায় কার্যকর করতে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
