সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পঞ্চগড়ে আলোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি এ রায় দেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী ওই নারী পঞ্চগড় সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে যান আসামিরা। এ সময় তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নারীদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ফ্রি, সরকারি বাসেও ভাড়া মওকুফ
খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারী ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনা পরীক্ষা করে মামলার কোনো আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যও উঠে আসে।
পরে সাক্ষীদের বক্তব্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিরা। তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় বিএনপি: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার সব নথি, পুলিশের প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত। এর মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট।
