প্রকাশ্যে বন্দুক হাতে পার্কে ঘোরাঘুরি, যা বললো পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বন্দুক হাতে দুই যুবকের ঘোরাঘুরি এবং পথচারীদের দিকে অস্ত্র তাক করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই যুবক বড় আকৃতির দুটি বন্দুক হাতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কখনো নগর পার্কে, কখনো ব্যস্ত সড়কে, নদীর ঘাট কিংবা দোকানের সামনে তাদের দেখা যায়। এ সময় পথচারী, রিকশাচালক এমনকি শিশুর দিকেও হঠাৎ বন্দুক তাক করতে দেখা যায়। এতে কেউ আতঙ্কিত হয়ে সরে যান, কেউ থমকে দাঁড়ান, আবার কেউ বিষয়টি বুঝতে পেরে অবাক হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। এসব দৃশ্য পেছন থেকে ভিডিও ধারণ করা হয়।
আরো পড়ুন: প্রকাশ্যে পুলিশকে মারধর করে ভিডিও ধারণ, অতঃপর
ভিডিওটির নির্মাতা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা ও ইয়াসিনের নাম জানা গেছে। লিমন তোহা শহরের দিগুবাবুর বাজার এলাকায় ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করেন। ইয়াসিন তাকে ভিডিও তৈরিতে সহযোগিতা করেন। পরে ভিডিওটি টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
লিমন তোহার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করেই তারা ভিডিওটি তৈরি করেছেন। মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুকগুলো খেলনা। পাকিস্তানি ধাঁচের ভিডিও তৈরি করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সাড়া পাওয়া যায় বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ সদস্যরাও বিষয়টি দেখেছিলেন। শুরুতে কয়েকজন মানুষ বন্দুক দেখে ভয় পেলেও পরে সেগুলো খেলনা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের ভিডিও জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানান, ভিডিওটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করেছে।
আরো পড়ুন: আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা দুই যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করেন এবং খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে থাকতে পারেন। তাদের বাড়ি বন্দর এলাকায় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো প্রকৃতপক্ষে খেলনা নাকি আসল, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা ও অস্ত্রের প্রকৃতি নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
