নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় ২,৫০০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল ও চীনে এখনো মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ।
এদিকে, শুধু নেপালেই ৫৮৪ জনের মরদেহ মিলেছে। আর চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের তৃতীয় দিনেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের অন্যতম প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসার ফলে এই বিপর্যয় ঘটে।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়বে অস্বস্তিকর গরম
এদিকে তিব্বত অংশে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শুক্রবার নেপাল পুলিশ নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী, উদ্ধারকারী ও ত্রাণকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় চীনে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে ঝুঁকি কমে আসায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক বন্যা। এ সময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। এই বন্যার শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার মাঝে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন। গতকাল চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল।ফিউনারেল ও কাউন্সিলিং সেবা খোঁজা দুর্যোগের পর নেপালের কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি শহর ও প্রত্যন্ত উপত্যকায় আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
-6a9252cd9f87b.jpg)
এদিকে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোও ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। কয়েকটি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ভেসে আসা কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
