কালিয়াকৈর-মাওনা সড়ক
২০ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক-দুই পাশে ঘন গজারি বন: দেড় বছরে নিহত ৫০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে মাওনা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরু সড়কের একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, দুই পাশে ঘন গজারি বন এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতি—সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়দের দাবি, গত দেড় বছরে এ সড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
কালিয়াকৈর থেকে মাওনা হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ থাকায় এ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিনই বাড়ছে যানবাহনের চাপ। বাস, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে সড়কটি দিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বাঁকগুলো এতটাই অপ্রশস্ত ও দৃষ্টিসীমার বাইরে যে, একটি যানবাহন বাঁক ঘোরার আগ পর্যন্ত বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন অনেক সময় দেখতে পায় না। এর সঙ্গে দুই পাশের ঘন গাছপালা ও অতিরিক্ত গতি যুক্ত হয়ে তৈরি করছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের দুদিন পর পদ্মায় ভেসে উঠল ছাত্রদল নেতার লাশ
ফলে সামান্য অসতর্কতা কিংবা ভুল সিদ্ধান্তেই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেককে। সম্প্রতি কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আবারও সামনে আসে সড়কটির ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের দুর্ঘটনা এ সড়কে নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই কোনো না কোনো স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের দুই পাশের গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে বাঁকের কাছে দৃষ্টিসীমা কমে গেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা না যাওয়ায় চালকরা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
সড়কটি ব্যবহারকারী চালকদের দাবি, দুর্ঘটনা কমাতে প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁকগুলোতে স্পিডব্রেকার বা কার্যকর গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও রোড মার্কিং স্থাপন করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের অতিরিক্ত গাছপালা ও ঝোপঝাড় ছেঁটে ফেলে দৃষ্টিসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা মিরর স্থাপন করা হলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগেই দেখতে পারবেন চালকরা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন তারা।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সংস্থাটির গাজীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে মিরর স্থাপনসহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে মিরর, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে কমে আসবে দুর্ঘটনা। বেঁচে যাবে অসংখ্য প্রাণ।
