চিফ প্রসিকিউটর
সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কোনো সাক্ষীকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ এসেছে। সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো মামলার সাক্ষীকে কেউ হুমকি দিচ্ছে -এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকিতে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কোনও ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে এই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত, বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবেদন
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তিনি জানান, রোববার মেঘের মামা রোমান একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাও যেন বিষয়টি তদন্ত করে। অন্যথায় কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পিবিআইকে সহযোগিতা করার কথাও তারা জানিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবেদনটি পর্যালোচনা করা হবে। বিষয়টি যদি ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক অফেন্স’-এর আওতায় না পড়ে, তাহলে আবেদনকারীদের তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে যেকোনো ব্যক্তি বা পক্ষের আবেদন করার অধিকার রয়েছে।
‘ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেস’ মনে হচ্ছে
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত চলমান। তাদের কাছে ঘটনাটি আপাতত একটি ‘ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেস’ বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক অফেন্স’-এর মধ্যে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতু যে কারও আবেদন করার এখতিয়ার রয়েছে, সে অনুযায়ী আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটি খুব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার বিষয় নয়।
তদন্তে পাওয়া সূত্রের কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করলে হয়তো ফলপ্রসূ কিছু পাওয়া যেতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই সাগর-রুনির পরিবার আবেদন করেছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে একটি তদন্ত করতে গিয়ে দুজন ব্যক্তির সূত্র পাওয়া গেছে। সেই প্রত্যাশা থেকেই পরিবারটি আবেদন করেছে বলে মনে করছেন তিনি।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে, এ ঘটনার আগে-পরে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একজন সামরিক কর্মকর্তার এক ধরনের যোগাযোগ, কথোপকথন, ডিস্ক আনা-নেওয়ার কিছু একটা ঘটেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে এগুলো করা হচ্ছিল। সেই জায়গা থেকে একটি সূত্র পাওয়া যায় বলে মনে হয়।’
