নিখোঁজের দুদিন পর পদ্মায় ভেসে উঠল ছাত্রদল নেতার লাশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে ট্রলার দুর্ঘটনার দুই দিন পর নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির (৩০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের অদূরে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া গ্রামে পদ্মায় ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌরসভার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার মৃত হাছান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মরদেহের সংবাদ পেয়ে দুপুরে স্বজনেরা এসে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের শৈলকূপার কাতলা ঘাট থেকে শতাধিক তরুণ ও যুবক ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ্ মাজারে আনন্দ ভ্রমণে যান। সফর শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাকশী রেলওয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রমের সময় ট্রলারটি সেতুর একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে রকিসহ ট্রলারের তিন যাত্রী নদীতে ছিটকে পড়েন।
এ সময় সহযাত্রীরা তৎক্ষণাৎ চেষ্টা চালিয়ে লিটন (৩৮) ও ওহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও রকি পানির স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ, ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা থানা এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে শুক্র ও শনিবার দিনভর অনুসন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি।
অবশেষে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষীকুন্ডার চরকুড়লিয়া এলাকায় শাখা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি ডাঙ্গায় তুলে আনেন।
লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই রকি নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীদের খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
