রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সোনারগাঁওয়ে জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে রাতের আঁধারে একটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুরো চর ভবনাথপুর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চর ভবনাথপুর এলাকায় একটি ২০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে মোস্তাক আহম্মেদ এবং প্রতিপক্ষ বকুল মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মোস্তাক আহম্মেদের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান এবং সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। গত শনিবার দুপুরে মোস্তাক আহম্মেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জমির পাশে কাজ করতে গেলে বকুল মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
এই হামলায় মোস্তাক আহম্মেদ, তার ভাই গোফরান উদ্দিন, ভাবি পারভীন ও লাইলী এবং ভাতিজা ইমন ও ইমরুলসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি রক্তক্ষয়ী জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হামলার ঘটনার পর মোস্তাক আহম্মেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের দুদিন পর পদ্মায় ভেসে উঠল ছাত্রদল নেতার লাশ
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ বকুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই সংঘর্ষে তাদের পক্ষেরও ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তার ছোট ভাই রাসেলের মুখমণ্ডলের হাড় ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ডেন্টাল ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় বকুল মিয়া বাদী হয়ে রাতে থানায় পৃথক আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তদন্ত করে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
এদিকে মামলার পরপরই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্বে মোস্তাক আহম্মেদের নির্মিত সীমানা প্রাচীরটি রাতের আঁধারে ভেঙে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, বকুল মিয়া তার লোকবল নিয়ে সোমবার উক্ত বিতর্কিত জমিতে নতুন করে পুনরায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে যেকোনো মুহূর্তে ফের বড় ধরনের রক্তাক্ত সংঘর্ষের প্রমাদ গুনছেন সাধারণ বাসিন্দারা।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, উক্ত জমির বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের পুরোনো কোন্দলের বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির সময় দেওয়া হলেও তা অমান্য করে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে যদি পুনরায় ওই জমিতে গিয়ে কেউ স্থাপনা বা কিছু নির্মাণ করতে চেষ্টা করে এবং সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তাহলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
