মেঘনায় ট্রলারডুবি
তিন ছেলে-মেয়ের লাশ উদ্ধার, বাবা নিখোঁজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের প্রধান হেলাল উদ্দিন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ঘাটের আশপাশের নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন— কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিনা (১৭) এবং দুই ছেলে সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। এর মধ্যে সামিনার মরদেহ রাত পৌনে তিনটার দিকে এবং সজিব ও সামিনের মরদেহ সকাল সোয়া আটটার দিকে বৈদ্যেরবাজারের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারডুবির এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা ও ডুবুরি দল ব্যবহার করা হলেও শুরুতে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ৯ জনকে কামড়ানো সেই শিয়ালের মাথা থেকে জলাতঙ্কের জীবাণু শনাক্ত
যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন যাত্রী একটি ট্রলারে চড়ে সোনারগাঁয়ের হারিয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রলারে বিয়ের জন্য দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল। পথে মেঘনা নদীতে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউ শুরু হলে ট্রলারে পানি উঠে তা ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগম (জাকির হোসেনের স্ত্রী, যিনি নিখোঁজ হেলালের ফুফু) নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
