মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন তিনি। তবে পরিবারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুমির বাসভবনের কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, মাদ্রাসার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুমি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান এই প্রতিবেদক। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, দুই থেকে তিন দিন ধরে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না। তার দাবি, মেয়েটিও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে গেছেন।
রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার আট বছর বয়সী একটি মেয়ে ও চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।
মাদ্রাসার ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর রুমি ও তার পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে। ফেসবুক লাইভে একাধিকবার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
রুমির বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। বর্তমানে পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুমি ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ
মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্যও সামনে এসেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় অর্থ আত্মসাৎ ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রুমি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়
ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও শিশুটির গোপনীয়তা রক্ষা করে ঘটনাটি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
