সিলেটে এক দিনে তিন মরদেহ উদ্ধার
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটে এক দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) নগরীর কাজলশাহ ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং জৈন্তাপুর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। অপরজনের নাম নুরুল হোসেন। তিনি ফেরি করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ৩টার দিকে নগরীর কাজলশাহ মসজিদের পাশের সড়ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (প্রায় ৫০) মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে পাঠায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, ওই নারীর নাম-পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশের গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। মরদেহের সঙ্গে কোনো কাগজপত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই যুবককে ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, রোববার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুরে তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে নুরুল হোসেন (মধ্যবয়সী) নামের এক ফেরিওয়ালার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায়। তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পণ্য বিক্রি করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর পাশে স্যান্ডেলভর্তি একটি ঝুড়ি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্যান্ডেল বিক্রি করতেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে নুরুল হোসেনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুল হোসেনের মরদেহ বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
