নববর্ষের বাজারে ইলিশে অগ্নিদগ্ধ ক্রেতাদের ক্ষোভ ও অস্বস্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান উৎসবগুলোর একটি। এ উৎসবকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশের চাহিদা বাড়লেও প্রতিবছরই ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায় জাতীয় এই মাছ।
বৈশাখী মৌসুমকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক কেজি ইলিশের দাম গত এক সপ্তাহে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দামও পৌঁছেছে আকাশচুম্বী পর্যায়ে।
আরো পড়ুন: সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, ১০০ টাকার নিচে নেই সবজি
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকেই তাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈশাখ উপলক্ষে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী হিমাগারে রাখা মাছ বাজারে ছেড়ে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছে। অন্যদিকে, বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন মৌসুমের সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে টাটকা ইলিশের জোগানও তুলনামূলক কম।
বাজারে আসা এক মধ্যবিত্ত ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “বাঙালির উৎসব মানেই এখন কিছু ব্যবসায়ীর উৎসব। বৈশাখ এলেই ইলিশের দাম এমনভাবে বাড়ানো হয় যে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য পান্তা-ইলিশ খাওয়া এখন বিলাসিতা মাত্র।” অনেকেই ইলিশের বদলে বিকল্প হিসেবে রুই বা কাতল মাছ দিয়ে উৎসব উদযাপনের কথা ভাবছেন।
আরো পড়ুন: দাড়ি রাখার ফজিলত ও শরয়ী নির্দেশনা
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পান্তা–ইলিশ সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, এটি ঐতিহ্যের চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাজার তদারকি এবং বিকল্প দেশি খাবারের প্রচার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
