ইশতেহার বাস্তবায়নে তিন ধাপের মেগা পরিকল্পনা করেছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তিন ধাপের মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনাগুলো ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বেশ কিছু অগ্রাধিকার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষায় নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা প্রদানের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবার এ কার্ড পেয়েছে।
এছাড়া কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও ন্যায্যমূল্যে উপকরণ প্রাপ্তি সহজ করতে গত ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের জন্য বাজেটে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার সুফল পাবেন সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক।
ই-হেলথ কার্ড ও সম্মানী ভাতা
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দিচ্ছে। একইসঙ্গে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী—এই পাঁচ জেলায় ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেল ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় চিকিৎসাসেবা শুরু হবে।
কর্মসংস্থান ও শিক্ষা
সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ লোক নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, তার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোতে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালু করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। ভাষাশিক্ষার্থী (ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট) ভিসার আওতায় জামানতবিহীন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং জাপানগামীদের ভিসা প্রাপ্তি সহজ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও পরিবেশ
দেশে পেপ্যাল কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্কগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা ও উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৪টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৬৬৬টি খালের কাজ চলমান, যার মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫.০৪ কিলোমিটার। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষাতেই প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।
ক্রীড়া
প্রতিভা অন্বেষণে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেটসহ ৮টি খেলা নিয়ে গত ২ মে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। ৫০০ জনকে এর আওতায় আনার লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনকে ভাতা ও ৩২৫ জনকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে।
