দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ছাড়াল ২০ লাখ টন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন।
একই সময়ে গমের মজুদ ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুদ ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এতে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুদ বাদে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন।
এর সঙ্গে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুদ যোগ হলে মোট মজুদ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন।
নীতিমালা অনুযায়ী, ধানকে চালের সমপরিমাণে রূপান্তর করে মোট মজুদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে চলমান ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম ৪৯৪ মেট্রিক টন সংগ্রহ হয়েছে।
ধানকে ১০০:৬৫ অনুপাতে চালে রূপান্তর করে মোট সংগ্রহের হিসাব নির্ধারণ করা হয়।
আরো পড়ুন : দেশের বাজারে আবার কমলো স্বর্ণের দাম
এছাড়া ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিকভাবে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই চাল।
চলতি অর্থবছরে খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি। সর্বশেষ ১৭ জুন একদিনে ৫ হাজার ১২০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম দেশে পৌঁছেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, ১৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ থাকলে তা নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। সে তুলনায় বর্তমান মজুদ নিরাপদ পর্যায়েই রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমান খাদ্য মজুদ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা জানান, বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে মজুদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩ মে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, যেখানে ধান, চাল, আতপ চাল ও গম সংগ্রহের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
