×

অর্থনীতি

সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, প্রণোদনা ৬০ হাজার কোটি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, প্রণোদনা ৬০ হাজার কোটি

ছবি : সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নররা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (২০০৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও এ নীতির উদ্দেশ্য।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মুখে ছিল। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা কমে চলতি বছরের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মুদ্রানীতিতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুদ্রানীতিতে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি ও সারের বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশ অতিরিক্ত চাহিদাজনিত নয়; বরং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের অদক্ষতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার ফল।

এ ছাড়া উচ্চ সুদহার, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি এবং সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়ার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে গেছে। ২০২৬ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। ফলে ব্যাংকগুলো উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ উৎপাদনমুখী খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করছে।

এ পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি স্থায়ী ঋণ সুবিধার সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্থায়ী আমানত সুবিধার সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল থাকবে।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্প উৎপাদনে নতুন গতি আসবে।

মুদ্রানীতিতে আরো বলা হয়েছে, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজারভিত্তিক ও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এতে রপ্তানির প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং প্রবাসী আয় প্রবাহও আরও উৎসাহিত হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, নতুন ঋণ নিষ্পত্তি কাঠামো বাস্তবায়ন, প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি (Expected Credit Loss) পদ্ধতি চালু, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার এবং সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালত আইনে সংশোধনের মাধ্যমে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে ‘বাংলা কিউআর’ নামে একটি অভিন্ন ডিজিটাল পরিশোধ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও নতুন মুদ্রানীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার ফলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসবে।

তবে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে আগামী দিনের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’

‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’

সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের

সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানবে কোথায়?

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানবে কোথায়?

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App