সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির বাজারে আগুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ৬০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চাষের পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
সোমবার রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ও মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ঢ্যাঁড়শ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়ার দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, উস্তা ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙে ৭০ টাকা এবং পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মাঝারি আকারের একটি লাউ, যা আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে শুধু পেঁপেই রয়েছে, যার দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা। অন্যদিকে কাঁচামরিচের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। এছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ৪০০ টাকা।
বাজার করতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান দামে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কম দামের যা পাওয়া যায়, সেটিই কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
ক্রেতা রাজ্জাক মণ্ডলের ভাষ্য, ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চাষের মাছের দামও ক্রমাগত বাড়ছে। আগে সপ্তাহে অন্তত এক-দুদিন মাছ কিনতে পারলেও এখন সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। আয় না বাড়লেও প্রতিদিন বাজারের খরচ বেড়েই চলেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বর্ষাকালে এমন পরিস্থিতি দেখা দিলেও এবার অতিবৃষ্টির কারণে সংকট আরো তীব্র হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা রাজু মণ্ডল বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ান না। আড়ত থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরো পড়ুন : বোরো সংগ্রহে ১ কোটি ৬০ লাখ পাটের বস্তা কিনবে সরকার
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিবৃষ্টির কারণে সবজি উৎপাদন কমে যায়। অনেক জমিতে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে, আর চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। এটি মৌসুমি একটি পরিস্থিতি।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই সবজির সরবরাহ কমেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে এবং তখন বাজারদরও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
