×

অর্থনীতি

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার (৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার) আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ৫২০ কোটি ডলার) এবং সেবা খাত থেকে ৮.২ বিলিয়ন ডলার (৮২০ কোটি ডলার) আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতির কারণে আগামী দিনে রপ্তানি বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী।

আরো পড়ুন: নতুন বাংলাদেশ গঠনের মূল শক্তি কৃষি ও তরুণদের উদ্ভাবন: মির্জা ফখরুল

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য খাত থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা খাত থেকে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল। তবে অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি দাঁড়ায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার।

মন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর ধরে রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এ স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সমালোচনা করতেও পিছপা হব না: বার্নহাম

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দুটি যুদ্ধ, উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক প্রতিকূলতা থাকলেও রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহ দিতে সরকার বাজেটে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার নানা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে, যা রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রপ্তানিকারকদের সহায়তায় আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে এফটিএও শিগগির চূড়ান্ত হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সম্পন্ন করা। পাশাপাশি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বর্তমানে কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুরুতে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, কার্যত করের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। এ ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ৬০টি দেশের ক্ষেত্রেই একইভাবে প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নতুন করে অতিরিক্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আরএমপিকে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা দিল রাসিক

নিরাপত্তা জোরদার আরএমপিকে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা দিল রাসিক

বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

‘আন্দোলনের প্রথম দিনই পদত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন ধর্মেন্দ্র’

‘আন্দোলনের প্রথম দিনই পদত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন ধর্মেন্দ্র’

ঠেরক্যান বিলে জলাবদ্ধতা, ৩০০ বিঘা জমি অনাবাদি

ঠেরক্যান বিলে জলাবদ্ধতা, ৩০০ বিঘা জমি অনাবাদি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App