নতুন বাংলাদেশ গঠনের মূল শক্তি কৃষি ও তরুণদের উদ্ভাবন: মির্জা ফখরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাতীয় পুনর্গঠন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিগত ১৫ বছরের শাসনের ফলে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রকে রিবিল্ড করার যে সুযোগ এসেছে, তা হেলাফেলায় নষ্ট করা যাবে না।’
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিখাতকে উদ্ধৃত্তমুখী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কৃষিখাতে যারা কাজ করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা মাঠের কৃষক- তারা এ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাদের গায়ে মাটির গন্ধ থাকে এবং দেশপ্রেম থাকে হৃদয়ে।’
তবে কৃষি নিয়ে পড়ালেখা করার পর বহু শিক্ষার্থী অন্যান্য পেশায় চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান কৃষি ও এগ্রো-বেসড (কৃষিভিত্তিক) শিল্প উদ্যোগে আত্মনিয়োগ করতে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র রিবিল্ডের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নির্বাসন থেকে ফেরার পরেই তিনি স্পষ্ট বলেছেন- আই হ্যাভ এ প্ল্যান! দেশ মেরামত ও পুনর্গঠনে তার এই দূরদর্শী ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।’
তিনি জানান, অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজাতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ধারণা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। যার লক্ষ্য কামার, কুমার, তাঁতি থেকে শুরু করে শিল্পী, গায়ক- সব পেশার মানুষকে অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং কারিগরি শিক্ষার (স্কিল ট্রেনিং) মাধ্যমে তরুণদের বিদেশের কর্মসংস্থানে সক্ষম করে তোলা।
দেশে চার কোটি শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু ডিগ্রি নিয়ে চাকরি খোঁজার দিন শেষ। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি, পোল্ট্রি কিংবা কৃষি ফার্ম গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণ ছাত্রসমাজের সাম্প্রতিক আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘একটি জগদ্দল পাথর ফ্যাসিস্ট শক্তিকে তরুণদের অদম্য আন্দোলনই সরিয়ে দিতে পেরেছে। গত ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে যারা গুম ও শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ এক বিশাল সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে।’
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের পড়ালেখার পেছনে দেশের কৃষক ও শ্রমিকের কষ্টার্জিত রক্ত-ঘামের ট্যাক্সের টাকা অবদান রাখছে। তাই পাস করার পর দেশের মানুষের প্রতি সেই ঋণের প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব তোমাদের ওপরই বর্তায়।’
মির্জা ফখরুল নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে সব রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ইতিবাচক রাজনীতি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
