চুক্তি ১২ বছরের
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং এর ফলে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এর মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। পাশাপাশি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
আরও পড়ুন: জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’: মাহদী আমিন
বুধবার (১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে। ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকেও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ হবে।
এ ছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চাকরি গেল বিপ্লব কুমার ও রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
অন্যদিকে, জিটুজি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হবে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে।
এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি- দুই ধরনের ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহ করে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
