সব কর অঞ্চলে বিশেষ পরিবীক্ষণ টিম গঠনের নির্দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং করসংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে দেশের সব কর অঞ্চলে বিশেষ পরিবীক্ষণ টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৬ আগস্ট জারি করা এ নির্দেশনায় করদাতাদের আয়কর রিটার্ন এবং টিআইএনসংবলিত স্বয়ংক্রিয় প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলে একটি করে পরিবীক্ষণ টিম গঠন করতে হবে। পরিদর্শন রেঞ্জ-১-এর নেতৃত্বে এ টিম পরিচালিত হবে এবং পরিদর্শন রেঞ্জ-২, ৩ ও ৪-এর কর্মকর্তারা যৌথভাবে এতে দায়িত্ব পালন করবেন। টিম লিডার হিসেবে উপকর কমিশনার, সহকারী কর কমিশনার বা অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কর পরিদর্শকেরা থাকবেন টিমের সদস্য হিসেবে।
যেসব ক্ষেত্রে কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র যাচাইকারী কর্তৃপক্ষ একই প্রতিষ্ঠান, সেসব ক্ষেত্রে একই পরিবীক্ষণ টিমকে উভয় দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়ার আগে তাঁর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে হবে। একইভাবে, টিআইএনসংবলিত প্রত্যয়নপত্রের সঠিকতাও আয়কর বিভাগের ওয়েবসাইট অথবা বারকোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে স্বাক্ষরিত তথ্য লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। এতে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র ও টিআইএন প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের তথ্য নথিভুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়কর আইনের প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এনবিআরের সঙ্গে অসহযোগিতা করলে আইন অনুযায়ী দণ্ড এবং নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ বা ট্রাস্টের উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের সময়ও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র ও টিআইএন প্রত্যয়নপত্র পরীক্ষা করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তি সেবা গ্রহণের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর ওপর প্রযোজ্য উৎসে করের হারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে কর আদায় করা হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন এনবিআরের ‘কর জরিপ ও পরিদর্শন শাখা’-তে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবীক্ষণ টিমকে নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে পরিবীক্ষণ বা তথ্য সংগ্রহ করা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের এ উদ্যোগের ফলে করদাতাদের রিটার্ন ও টিআইএনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভুয়া বা ভুল তথ্যের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব ফাঁকি নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
