×

অর্থনীতি

সামিটের টার্মিনাল চালু, কমবে গ্যাস সংকট

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

সামিটের টার্মিনাল চালু, কমবে গ্যাস সংকট

ছবি : সংগৃহীত

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

সামিট এলএনজি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ২টার মধ্যে টার্মিনালের সর্বোচ্চ ৫৫০ এমএমসিএফডি সক্ষমতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়বে। এতে জ্বালানি সংকটের চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, টার্মিনাল ও জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থার কারিগরি সক্ষমতার মধ্যে থেকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম বজায় রেখে সর্বোচ্চ পরিমাণ গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে সামিট। একই সঙ্গে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক টার্মিনাল চালু, অন্যটিতে কারিগরি ত্রুটি

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে সামিটের টার্মিনালে আবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে এর মধ্যেই নতুন করে সমস্যায় পড়েছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮টা পর্যন্তও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিটল এশিয়ার একটি নতুন এলএনজি জাহাজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে রাতের পর থেকে সরবরাহ বাড়ানোর কথা রয়েছে। ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরামকোর জাহাজ নিয়ে জটিলতা

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের এলএনজি জাহাজটি টার্মিনালে সরাসরি স্থানান্তরের উপযোগী ছিল না। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট কারিগরি সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। ওই জাহাজে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

এ কারণে টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। পরে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি থেকে এলএনজি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে এবং এর পরিবর্তে আরামকো নতুন একটি এলএনজি জাহাজ পাঠাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এক্সিলারেটের টার্মিনালেও বড় অনিশ্চয়তা

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ এমএমসিএফডি।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। রান্না, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও এর প্রভাব পড়ে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০০ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও সেটিও শুক্রবার বন্ধ হয়ে যায়। এটি দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কখন এ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

তবে সাম্প্রতিক সংকটে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে। ফলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৯৩ কোটি ঘনফুটে।

সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ধাপে ধাপে ৫০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা সম্ভব হলে এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাবে। সে ক্ষেত্রে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৪৩ কোটি ঘনফুট হতে পারে। এতে সংকটের তীব্রতা কিছুটা কমলেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থেকেই যাবে।

তাৎক্ষণিক সমাধান নেই

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও এর তাৎক্ষণিক সমাধান সহজ নয়। এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি টার্মিনালগুলোর কারিগরি সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো জরুরি।

গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া আবার গরম হয়ে উঠলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দেশের সামগ্রিক গ্যাস ঘাটতি দূর করতে এক্সিলারেটের টার্মিনালসহ পুরো এলএনজি সরবরাহব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সামিটের টার্মিনাল চালু, কমবে গ্যাস সংকট

সামিটের টার্মিনাল চালু, কমবে গ্যাস সংকট

প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ

প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চায় জামায়াত

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চায় জামায়াত

৪৪ সরকারি কারখানা বেসরকারি খাতে, জনগণের লাভ কতটা?

৪৪ সরকারি কারখানা বেসরকারি খাতে, জনগণের লাভ কতটা?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App