রিজেন্ট টেক্সটাইল
৫ পরিচালককে শতকোটি টাকা জরিমানা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের পাঁচ পরিচালককে মোট শতকোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আইপিওর আত্মসাৎ করা ৯০ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর এমন কঠোর শাস্তি দিয়েছে বিএসইসি।
জরিমানাক করা পাঁচ পরিচালক হলেন- ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন আলী, তানভীর হাবিব, মাশরুফ হাবিব ও সালমান হাবিব। প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের জারি করা আদেশ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিশনের এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদেশ অনুযায়ী, বিএসইসির আগের নির্দেশনা অনুযায়ী রিজেন্ট টেক্সটাইলকে আইপিওর অপব্যবহৃত ৯০ কোটি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পাঁচ পরিচালকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে কমিশন।
জরিমানার অর্থ বিএসইসির আদেশ জারির ২০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেক পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ হবে এবং খেলাপি থাকা পর্যন্ত এ জরিমানা চলবে।
আরো পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সংকেত, কমলো জ্বালানি তেলের দাম
বিএসইসির তদন্তে সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো আইপিওর অব্যবহৃত অর্থ দিয়ে একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ। তদন্তে দেখা যায়, সুদসহ ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা রিজেন্ট টেক্সটাইলের অব্যবহৃত আইপিও অর্থ থেকে সরিয়ে লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেডের ৯৯ শতাংশ মালিকানা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি রিজেন্ট টেক্সটাইলের মালিক পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত।
বিধান অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ তার সাবসিডিয়ারি, সহযোগী বা সিস্টার কনসার্নে বিনিয়োগ করতে পারে না। এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের জন্য পৃথকভাবে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। ফলে রিজেন্ট টেক্সটাইলের এ ধরনের বিনিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে দেখেছে কমিশন।
শুধু আইপিওর অর্থ স্থানান্তর নয়, কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য উপস্থাপনেও অনিয়ম পেয়েছে বিএসইসি। তদন্তে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) ১ এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস ২৪ অনুসরণ না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস অনুযায়ী কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে প্রকৃত ও ন্যায্য আর্থিক চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থতার বিষয়টিও চিহ্নিত করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল। ওই অর্থ দিয়ে কোম্পানির বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন একটি তৈরি পোশাক ইউনিট স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় কোম্পানিটি একাধিকবার সময় বাড়িয়েছে।
সময় বাড়িয়েও আইপিওর অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এরপর সেই অর্থের একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের ঘটনায় আইপিওর অনুমোদনের সময় দেওয়া শর্তও ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করছে বিএসইসি।
