×

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ, কাটেনি জট

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ, কাটেনি জট

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকা এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে অগ্রগতি—দুই বিষয়ই সফরের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা, পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে আমন্ত্রণ থাকলেও সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানও স্পষ্ট। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে সমমর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং দুই রাষ্ট্র ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে হওয়া উচিত বলে মনে করছে ঢাকা।

এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের আলোচনাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যে দিল্লিরও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ছাড়াও অন্য কোনো বিষয় সফরকে প্রভাবিত করছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারত। অন্যদিকে ঢাকার প্রশ্ন—বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ভারত কতটা গ্রহণ করছে এবং পুরোনো সম্পর্কের কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দিল্লি কটা প্রস্তুত।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশ কখনো বলেনি যে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাবেন না। তবে সফরকে ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশই চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশ এখন আগের অবস্থানে নেই। পরিবর্তিত বাংলাদেশকে ভারত যত দ্রুত বুঝতে ও গ্রহণ করতে পারবে, দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ততই ভালো হবে।

এদিকে সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। বিভিন্ন পর্যায়ে ২২ বা ২৩ আগস্টের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটই বর্তমান জটিলতার অন্যতম কারণ। উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ স্বার্থ নিশ্চিত করতে চাইছে। ফলে শুধু একটি সফর আয়োজন করলেই সম্পর্কের সব সমস্যা সমাধান হবে না।

সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা ছিল, যার সঙ্গে ভারত অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এখন বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন প্রত্যাশা ও শর্তের কথা বলছে। ফলে বিষয়গুলো দিল্লির কাছে নতুন ও কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে।

তিনি মনে করেন, সফরকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা তৈরি না করে কীভাবে আরও কার্যকর ও সহজভাবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়, সে পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও সম্প্রতি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর খুব শিগগির হওয়া উচিত। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা শীর্ষপর্যায়ের বৈঠক ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন শুধু কবে সফর হবে—তা নয়; বরং এই সফরের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি হবে কি না, সেটিই বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রংপুরে চার খুন, পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ

রংপুরে চার খুন, পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ

৫ পরিচালককে শতকোটি টাকা জরিমানা

রিজেন্ট টেক্সটাইল ৫ পরিচালককে শতকোটি টাকা জরিমানা

রাজধানীর যেসব স্থানে বসছে নতুন ৫০ এআই ক্যামেরা

রাজধানীর যেসব স্থানে বসছে নতুন ৫০ এআই ক্যামেরা

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ, কাটেনি জট

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ, কাটেনি জট

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App