‘বাংলাদেশ-ভারত কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে সমতা, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশই স্বাধীন ও সার্বভৌম। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভালো রাস্তা ও বিদ্যুৎ চায়। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে মানুষের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই। তবে সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা উন্নয়ন। উন্নয়ন ছাড়া কোনো কিছুই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্সি’ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি ভারতের উন্নয়নেও বাংলাদেশের প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশের এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত মেধাবী। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দুই দেশেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব বেশি নয়; তারা শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন চায়। শান্তি নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধি অর্জনও সহজ হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ, কাটেনি জট
তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।
বাংলাদেশ ও ভারতের পোশাক খাতে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া উচিত, আর রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা ও অধিকার রয়েছে, তা পূরণ করা দুই দেশেরই দায়িত্ব।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতার গুরুত্ব তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান।
তাঁর মতে, এই সমতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ও ভারতকে ভবিষ্যতে কাজ করে যেতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
সচিবালয়ের এ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
