চবিতে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িতদের শাস্তির সুপারিশ সিন্ডিকেট সভায়
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ইত্যাদির দায়ে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তির সুপারিশ করেছে সিন্ডিকেট। গত মঙ্গলবার ও এর আগের দিন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৫তম সভায় নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত ৫ জনের শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করে সিন্ডিকেট।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত উপাচার্য শিরীণ আখতারের সাবেক সহকারী খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রারে পদাবনতি ও বদলি করা হয়। একই দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনকে পদাবনতি ও বদলি করা হয় তার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক নিয়োগের ফাইল হারানোর দায়ে। অনিয়মের দায়ে হিসাব নিয়ামক দপ্তরের কর্মচারী আহমদ হোসেন, বিজ্ঞান ওয়ার্কশপের সহকারি যন্ত্র প্রকৌশলী হাদী মো. রশিদ এবং রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা সেলের নিম্নমান সহকারী মানিক চন্দ্র দাশকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, সিন্ডিকেট সদস্য নঈম হাসান আওরঙ্গজেব চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেছেন, ‘সিন্ডিকেটে যাদের বিরুদ্ধে শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকেই নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে যুক্ত এমনটা নয়। অন্যান্য অনিয়মের জন্যও এখানে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘খালেদ মিসবাহুল, আহমদ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ফৌজদারি আইনে মামলা করার। তবে মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে ফাইল হারানোর দায়ে।’
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে খালেদ মিছবাহুল ও কর্মচারী আহমদ হোসেন তিনজন নিয়োগপ্রার্থীকে টাকা দিতে বলেন এমন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে তিনি উপাচার্যের তরফ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে দাবী করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদ মিছবাহুলকে পদাবনতি ও আহমদ হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়। একই বছর আগস্টে কর্মচারী নিয়োগের জন্য মানিক চন্দ্র দাশ ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত কাজের জন্য টাকা নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দুই দফায় গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
এদিকে, ২০১৮ সালে চাকরির মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠে কর্মকর্তা হাদী মো. রশিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০২১ সালে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ প্রমাণিত হাদী মো. রশিদকে বরখাস্তের সুপারিশ করে সিন্ডিকেট। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংক্রান্ত ফাইলের দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন। ফাইল হারিয়ে ফেলায় ওই দপ্তর থেকে বদলির ও পদাবনতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
