শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’—উভয় ধরনের বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হবে। প্রায় এক দশক পর এ হার পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন বার্ষিক অনুদান বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা হবে। এতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দের ওপর এ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১) মো. সাইদুর রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাউশি প্রস্তাব জমা দিলে তা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরে অর্থ বিভাগের কাছে বাজেট বরাদ্দ চাওয়া হবে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত তা কার্যকর করা হবে।
গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও পেশামূলক বৃত্তিসহ সব ক্যাটাগরির মাসিক ভাতা ও বার্ষিক অনুদান দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসব বৃত্তির হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সভাসূত্রে জানা গেছে, ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব স্তরের বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ থেকে ৪৫০ টাকায় উন্নীত করা হবে। জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়েও একইভাবে বৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।
এককালীন বার্ষিক অনুদানও বাড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২২৫ থেকে ৪৫০ টাকা, জেএসসি পর্যায়ে ৫৬০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকা, এসএসসিতে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এইচএসসিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া সংখ্যালঘু, উপজাতি, দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক এবং পেশামূলক উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন বৃত্তির হার অপরিবর্তিত ছিল। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এটি হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সুত্র : বাসস
