×

শিক্ষা

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসির ফল কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:২২ পিএম

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসির ফল কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ

ফাইল ছবি

এসএসসি পাস করার পরই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু এসএসসির ফল ভালো হলেই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। কোন পর্যায়ে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভর করে শিক্ষার্থী কোন দেশে এবং কোন স্তরে পড়তে যেতে চাইছেন তার ওপর। প্রশ্ন হলো- সেখানে গিয়ে কি আবার স্কুলের নিচের কোনো শ্রেণিতে ভর্তি হতে হয়?

এসব প্রশ্ন এখন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি ও কলেজ বাছাইয়ের পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার বিকল্প নিয়েও খোঁজখবর করছেন অনেকে।

একসময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় অংশ বিদেশে যেতেন স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি করতে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

ইউনেস্কোর ‘হায়ার এডুকেশন গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, গত দুই দশকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর চলাচল বেড়েছে।

এসএসসির পরই কি বিদেশে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, এসএসসি পাস করার পর বিদেশে পড়তে যাওয়া সম্ভব। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসএসসির পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া যায় না।

আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে সাধারণত ১২ বছরের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করার শর্ত থাকে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এই পর্যায়টি এইচএসসি পর্যন্ত বিস্তৃত।

তাই এসএসসি শেষে বিদেশে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীকে অনেক ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন কোর্স, ডিপ্লোমা বা সমমানের প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হয়। এসব প্রোগ্রাম শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: জানা গেল এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

অর্থাৎ এসএসসির পর বিদেশে গেলে সাধারণত নিচের কোনো শ্রেণিতে ফিরে যেতে হয় না; বরং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অতিরিক্ত একাডেমিক ধাপ পার করতে হয়।

ও-লেভেল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কী হয়?

বাংলাদেশ থেকে ইংরেজি মাধ্যমের ও-লেভেল শেষ করে বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পথটি কিছুটা ভিন্ন। যেমন, যুক্তরাজ্যে গিয়ে এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়।

বিদেশে পড়াশোনার পরামর্শক তামান্না তমার মতে, বাংলা মাধ্যমে এসএসসি শেষ করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় ও-লেভেল সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আবেদন অনেক ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির পর ফাউন্ডেশন কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। আবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এক বছরের ফাউন্ডেশন কোর্স সম্পন্ন করে স্নাতকে ভর্তির সুযোগ দেয়।

বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এসএসসির ফলাফল বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে একেবারে অপ্রয়োজনীয় নয়। তবে এটিই সাধারণত ভর্তির প্রধান নির্ধারক নয়।

কোনো শিক্ষার্থী যদি বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি বা এ-লেভেল শেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আবেদন করেন, তখন তার সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা—অর্থাৎ এইচএসসি বা এ-লেভেলের ফলাফল—বেশি গুরুত্ব পায়। এসএসসির ফলাফল সেখানে মূলত সহায়ক তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে কয়েকটি কারণে এসএসসির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা: শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় কোনো দীর্ঘ বিরতি বা গ্যাপ আছে কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসএসসি সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ।

একাডেমিক অগ্রগতি: শিক্ষার্থীর ফলাফল সময়ের সঙ্গে উন্নত হয়েছে কি না, সেটিও দেখা হয়। যেমন, এসএসসিতে ৩.৫০, এইচএসসিতে ৪.৫০ এবং স্নাতকে ৩.৭৫—এ ধরনের ধারাবাহিক উন্নতি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ন্যূনতম যোগ্যতা: কিছু দেশে ফাউন্ডেশন বা ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য এসএসসিতে নির্দিষ্ট গ্রেড বা নম্বরের শর্ত থাকে।

তবে ন্যূনতম ফলাফলের শর্ত দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা হতে পারে।

এইচএসসি শেষ করে গেলে কি সুবিধা বেশি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এইচএসসি শেষ করে বিদেশে যাওয়ার পথ তুলনামূলক সহজ।

কারণ, এইচএসসি শেষ করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ১২ বছরের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ফলে অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সরাসরি আবেদনের সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, এসএসসির পর বিদেশে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন বা ডিপ্লোমা করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটিই বাড়তে পারে।

তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্দিষ্ট দেশের ফাউন্ডেশন বা সমমানের প্রোগ্রামের মাধ্যমে এগোতে চান এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্য থাকে, তাহলে এসএসসির পরও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শুধু ফল ভালো হলেই কি হবে?

না। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে—

ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ভালো ফল;

IELTS, PTE বা সমমানের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার ফল;

পড়াশোনায় অযৌক্তিক গ্যাপ না থাকা;

প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা;

যে বিষয়ে পড়তে চান, তার সঙ্গে আগের শিক্ষাগত যোগ্যতার সামঞ্জস্য;

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ভর্তি-শর্ত পূরণ।

বিশেষ করে মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইনের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের নির্দেশনা

মাস্টার্স বা পিএইচডিতে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উচ্চশিক্ষার স্তর যত এগোয়, এসএসসির ফলাফলের গুরুত্ব তত কমে যায়।

মাস্টার্স, এমফিল বা পিএইচডিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণত শিক্ষার্থীর সর্বশেষ ডিগ্রির ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, থিসিস বা প্রকাশনা, ইন্টার্নশিপ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), ভাষাগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সে ক্ষেত্রে এসএসসির ফলাফল সাধারণত বড় কোনো সিদ্ধান্তের নিয়ামক নয়।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশমুখী শিক্ষার্থী বাড়ছে

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫৩ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের ৫৫টি দেশে গেছেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১ এবং ২০২১ সালে ৪৪ হাজার ৩৩৮।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ১১২। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বিদেশমুখী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

এসএসসির পর বিদেশে যাওয়ার আগে কী ভাববেন?

এসএসসি পাস করার পর বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে যাচাই করা জরুরি—কোন দেশে যেতে চান, সেখানে এসএসসি কোন পর্যায়ের যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়, ফাউন্ডেশন বা ডিপ্লোমা লাগবে কি না, মোট খরচ কত, ভিসার শর্ত কী এবং পরে স্নাতকে যাওয়ার সুযোগ কতটা নিশ্চিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসএসসির পর বিদেশে গেলে সাধারণত নিচের কোনো শ্রেণিতে ভর্তি হতে হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন, ডিপ্লোমা বা সমমানের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১২ বছরের শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে হয়।

আর যদি এইচএসসি বা এ-লেভেল শেষ করে বিদেশে যাওয়া হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে আবেদন করা সম্ভব।

অতএব, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এসএসসি ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই শেষ কথা নয়। শিক্ষার্থীর সর্বশেষ একাডেমিক ফল, ভাষাগত দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি-শর্ত— সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৩ কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করল যৌথবাহিনী

৩ কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করল যৌথবাহিনী

সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে

সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে

টানা ৪ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

টানা ৪ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App