রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সততা-মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাকে প্রাধান্য দিতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই পর্ষদে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রয়োজনে দুই বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব ও ত্যাগের জন্য তিনি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানসহ সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে প্রবেশ করলেন রাষ্ট্রপতি, দেয়া হলো গার্ড অব অনার
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ও বীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনের পর বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন’ (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে এডিএসআইয়ের বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এরপর বিমানবাহিনীর ‘এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার’ (এসিওসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখানো হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের একটি কার্যক্রমও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে বিমানবাহিনীর ‘এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স’ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাহিনীর বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
এ সময় বিমানবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল বা ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।
নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরি বিমানবাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত, গেজেট সেপ্টেম্বরে
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
নৌ ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনের সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
